মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল, এক্সপ্রেসওয়েতে মিলল মরদেহ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৪ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৪ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় আসছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। তবে মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার আগেই তার জীবন থেমে গেল। রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর মরদেহটি উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়: ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন

নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় ৯ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর কিছুদিন কাশিমপুরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূর সঙ্গে থাকলেও গত চার মাস ধরে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার বাবা ফোন করে সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন। প্রথমে গাজীপুরের জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করেও বাবাকে না পেয়ে একাধিকবার ফোন করেন তিনি। ফোন বন্ধ পাওয়ার পর পরে বনানী থানা পুলিশের মাধ্যমে বাবার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ, মিজান বললেন ‘অভাবের তাড়নায় করেছি’

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোট মেয়ে শারমিনের বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত করতেই ইসমাইল ঢাকায় আসছিলেন। বিয়ের খরচের জন্য সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ ও ঘর তৈরির কাজে কিছু টাকা খরচ করার পর অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পরিবারের দাবি, ইসমাইলের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন এবং বাজারের ব্যাগ—কোনোটিই মরদেহের সঙ্গে পাওয়া যায়নি। তার পরনে ছিল শুধু শার্ট ও লুঙ্গি।

বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত কোনো ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।