হাওরে সারের সংকট, রবি শস্যের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় রবি শস্যের মৌসুম শুরুতেই রাসায়নিক সারের সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। জমি চাষের উপযোগী করে প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো বীজ বুনতে পারছেন না। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এতে চলতি মৌসুমে রবি শস্যের আবাদ ও উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাওরে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ফসল ফলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবার অনেক জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। সেই সুযোগে জমি প্রস্তুত করলেও সারের অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে চীনা প্রতিষ্ঠানের ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ
উপজেলার দামপাড়া, মজলিসপুর, আহসানপুর, সিংপুর, ভাটিবরাটিয়া, ছেত্রা, পূর্বগ্রাম, জাফরাবাদ ও বেরিবাঁধ হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সারের সংকটের বিষয়টি জানা গেছে।
কৃষকেরা জানান, এবার সরিষা, মাসকলাই, আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য চাষের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। কিন্তু ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার না থাকায় জমি প্রস্তুত করেও বীজ বপন করা যাচ্ছে না। ফলে জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া ও মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ করতে না পারলে ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: শাজাহানপুরে মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন
উপজেলার শহরমূল এলাকার কৃষক মাসুম মিয়া (৪৮) জানান, তাঁর ২২ একর জমির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি তিনি। কয়েক দিন পর আসতে বলা হলে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক হারিস আহমেদ (৫০) বলেন, কয়েক দিন আগে জমি প্রস্তুত করলেও ইউরিয়া সারের অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। এর মধ্যে মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সার সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি।
একই সমস্যায় পড়েছেন সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রোকন (৩২)। তিনি জানান, ভুট্টা চাষের জন্য আট একর জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় বীজ বপন করতে পারছেন না। ডিলারের পক্ষ থেকে সোমবার বা মঙ্গলবার সার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
রোকন বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলাররা মাত্র ১৫ কেজি করে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দিয়ে কীভাবে চাষাবাদ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
এদিকে, সারের সংকটের জন্য কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতাকে দায়ী করছেন ডিলারদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ফসফেট সার ব্যবহার করেন অনেক কৃষক। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ কেজি ব্যবহারের কথা থাকলেও কেউ কেউ ৩০ কেজি বা তারও বেশি প্রয়োগ করেন। এতে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।
সিংপুর ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আজিজুর রহমানের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান জানান, রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
দু-এক দিনের মধ্যে সংকট সমাধানের আশা
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল সামাদ বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সাময়িকভাবে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে জমি প্রস্তুত করার পরও নির্ধারিত সময়ে রবি শস্যের আবাদ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সময়মতো সার পাওয়া না গেলে হাওরের কৃষকদের বাড়তি খরচের পাশাপাশি ফসল উৎপাদনেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।





