জৈন্তাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
সিলেটের জৈন্তাপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাসনাত খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিয়াম ডাক্তার কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলাল।
আরও পড়ুন: ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়: ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাসনাত খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন, ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বরের ঘটনা সংঘটিত হয়। ওই দিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের অভ্যুত্থান ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ, মিজান বললেন ‘অভাবের তাড়নায় করেছি’
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম দিক ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তাঁর বক্তব্যে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন ভাষাভাষী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং জাতীয় ঐক্যের আলোচনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
ইউএনও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে ইতিহাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা এবং তথ্যভিত্তিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের ইতিহাস শুধু একটি দিনের ঘটনাপ্রবাহ নয়; বরং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশে তাঁর ভূমিকা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নিলয় মালাকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার, উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওলিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস শুক্কুর, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল এবং জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ইমাম উদ্দিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শুক্কুর মেম্বার, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন মেম্বার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলহাস, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি হারুন রশিদ সরকার, উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আহমেদ তারেকসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।





