পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন, উত্তরা পূর্ব থানায় জিডি
রাজধানী ঢাকায় ব্যবসায়িক লেনদেনের পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী এটিএম আবুল হাসেম মজুমদার (৬৯) উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রে অভিযুক্ত ইত্তেহাদ তহিদুল ইদ্রিসের কাছে তার ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজধানীর উত্তরার একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচিত বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনে ৪টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা
জিডিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ দুপুর আনুমানিক ২টা ১৩ মিনিটে ভুক্তভোগী পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি—যিনি নিজেকে মাইনুল মিয়া হিসেবে পরিচয় দেন—ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত ইত্তেহাদ তহিদুল ইদ্রিসও একাধিক মোবাইল নম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে তাকে হুমকি দিয়েছেন। বিশেষ করে ভবিষ্যতে পাওনা টাকা চাইলে ‘দেখে নেওয়া হবে’—এমন ভাষায় সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আবুল হাসেম মজুমদার। তিনি মনে করছেন, যেকোনো সময় তার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রমাণ হিসেবে বিষয়টি লিপিবদ্ধ রাখতে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে তার জানমাল নিরাপদ থাকে এবং পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি হয়রানির শিকার না হন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী এটিএম আবুল হাসেম মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ইত্তেহাদ তহিদুল ইদ্রিস তার নিকট থেকে ১/২ কিস্তিতে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন এবং ধারকৃত টাকা দ্রুত ফেরত দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সে অনুযায়ী আবুল হাসেম মজুমদার এবং ইত্তেহাদ তহিদুল ইদ্রিসের মধ্যে একটি জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী আবুল হাসেম মজুমদার চুক্তি অনুযায়ী টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত ইত্তেহাদ ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে চলে যান। মোবাইলে বারবার তার ও তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার গাড়ির ড্রাইভার রুবেলের ০১৬০৭০৮৩১৩৮ এবং ০১৬২৩৩৮৪৬৮ এই দুইটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন।
শুধু তাই নয়, রুবেলই আবুল হাসেম মজুমদারের কাছে গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর রুবেলও ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অসহায় আবুল হাসেম মজুমদার সম্প্রতি ইত্তেহাদ তহিদুল ইদ্রিসের রাজধানীর উত্তরার বাসায় গিয়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হুমকি-ধমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।





