সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ ডাকসুর

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, শপথ গ্রহণ না করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে অগ্রাহ্য করেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও পূর্বের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু জানায়, সাম্প্রতিক গণভোটে সংস্কারের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সে প্রেক্ষাপটে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানো জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল বলে মনে করে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন: চবি সিন্ডিকেটে চ্যান্সেলর মনোনীত সদস্য নির্বাচিত হলেন অধ্যাপক ড. মোঃ মনজুরুল কিবরীয়া

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক পরিবর্তন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আদেশ জারি করা হয়। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একযোগে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

ডাকসু বলেছে, জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। কিন্তু দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জনরায় উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: জিবিসিডিসি এর নতুন সভাপতি বিদিতা, সম্পাদক জিসান

সংগঠনটি অবিলম্বে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানায়। অন্যথায় নতুন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিচার প্রক্রিয়া ও নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

ডাকসু আরও বলেছে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি কখনোই ইতিবাচক হয়নি। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।