বহু গুণে গুণান্বিত মডেল ও অভিনেত্রী কথা চৌধুরী
সাত বোনের মধ্য পঞ্চম তিনি। তবে নেই তার কোন ভাই। ২০-ই ফেব্রুয়ারী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মাঝিহট্ট ইউনিয়নে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। মাধ্যমিক স্কুল শেষ করেন দামগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন দামগাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। পরে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শোনার জন্য বগুড়া শহরের আইআইটিবি পলিটেক কলেজে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হন এবং শেষ করেন। ডিপ্লোমায় থাকা অবস্থায় তার প্রথম অভিনয় শুরু। এবং বগুড়ার নন্দন শিল্পী গোষ্ঠী কোলনীতে তিনি অভিনয় ও গান প্রাকটিস করতেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা শহরে পাড়ি জমান তিনি।
ইউরোপিয়ান ইউনিভারসিটিতে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন ও শেষ করেন। ঢাকা শহরের র্ফামগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। টানা ৬ বছর একুশে টিভির পর্দায় আদালত প্রোগ্রামে এবং এটিএন বাংলার ক্রাইম পেট্রালে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
আরও পড়ুন: একুশে পদক জহির রায়হানকে উৎসর্গ করলেন ববিতা
ইউনিভার্সিটি থাকা অবস্থায় তিনি পড়াশোনা এবং অভিনয় দুটোই চালিয়ে যান। অভিনয় জগতে কারো মাধ্যমে আসা হয়নি বলে জানান তিনি। মিডিয়ায় আসার পিছেনে কাউকে কাছে পান নি। এর্পযন্ত কাজের জন্য বিন্দু পরমিাণ সাহায্য পান নি। ভালো কাজ দেখিয়ে ভালো জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে আছে তার। ছোটবলো থেকেইে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি ইঞ্জিনিয়ার এবং অনকে বড় নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখেন তিনি। আর সেই স্বপ্ন থেকেইে আজকে এই অভিনয়ে আসা। তবে তার প্রথম কাজ ছিল- "দীপ্ত" টিভির সঙ্গে নাটক: হ্যালো ম্যাডাম, তারপরে "এস.এ" টিভিতে নাটক: লাভ ইন লকডাউন, তারপরে চ্যানলে নাইন এ সাত পর্বের র্ফায়ার বক্স, তার অভিনীত সকল বেসরকারী টিভি চ্যানেলে এবং সরকারি টিভি চ্যানেলে ধারাবাহিক নাটক: অক্টোপাস, জবা, ভাল্লাগনো, গৃহলক্ষী, বনগ্রাম, গুড়বোল,সিনেমার মানুষ।
অনেক সিঙ্গেল নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন, তার মধ্য উল্লেখযোগ্য, কোঠা আন্দোলন, ফ্রিজের ভেতর লাশ,মায়াবী, মাস্টারমাইন্ড কিলার, আজ কিছু হবে, মায়ের আঁচল, মায়ের ঈদ, ট্র্যাপ, আইফোন, ফায়ার বক্স, বাঘা ডাকাত, কোকিলা গ্যাং, ইতির সংসার, মামলাবাজ, বিশ্বাসে আঘাত, মাই ট্রু লাভ, জামাই ৪২০, আই ওয়াশ, প্রবাসীর ভালো বউ। নাটক ছাড়াও তিনি রংধনু গ্রুপের বিজ্ঞাপন, ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন, , এবং গোল্ডস্যান্স গ্রুপের একটি ওভিসিতেও কাজ করেছেন।
আরও পড়ুন: আইয়ুব বাচ্চু ও ববিতাসহ ১০ জন পাচ্ছেন একুশে পদক-২০২৬
বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম ইংরেজি মুভি "ডট"যেটা বাংলাদেশের সাতটি হলে চলেছে, এবং আমেরিকার মতো জায়গাতে ও আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রচার হয়েছে সেই মুভিতে ও তিনি কাজ করেছেন। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল অডিটরিয়ামে ইন্টার্নেশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রচার হয়েছিল মুভিটি। তখন তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন, এবং তখনও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন কথা চৌধুরী। ফিল্মটি ফেস্টিভালে প্রচারের পরই দর্শকদের মুখে মুখে তার ক্যারেক্টারের নামই ছিল। এক কথায় পুরো মুভিতে একটা ক্যারেক্টার বেস্ট হয়েছে বলে মন্তব্য ও করেছেন দর্শকরা। তার অভিনয় একদম ন্যাচারাল এবং ক্যারেক্টারের সাথে মিলিয়ে ছিলেন, যা কথা চৌধুরীর জন্য ভবিষ্যতে ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসবে বলেও জানান কিছু ভক্তরা।
বর্তমানে তার একটি মুভির শুটিং চলছে যেটাতে তিনি মেইন নায়িকার ক্যারেক্টার করছেন। মিডিয়ায় কাজ করার পেছনে কোন আইডল নাই বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও মুভি করার ইচ্ছে তার। নায়ক বাপ্পির সাথে তার নায়িকা হয়ে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেন।
ভারতে গিয়ে কাজ করার ইচ্ছে ছিল এবং সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি বলে জানান। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারনে তিনি কাজ করতে পারেন নি। ভারতের আকাশ নন্দী ও সুমিত গাঙ্গুলীর আমন্ত্রণে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল তার, যাওয়া আর হলো না। কখনও ভারতে কাজ করার সুযোগ হলে দেবের সাথে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি। ভারতীয় নায়িকাদের মধ্যে শ্রাবন্তী ও শুভশ্রীকে তার অনেক ভালো লাগে বলে ও জানান।
মোস্তফা মনোনয়ন ভাইয়ের আমন্ত্রণে একটি সিঙ্গেল নাটকে প্রথম কাজ করা হয় বলে জানান তিনি । তিনি বলেন, অভিনয়ের পাশাপাশি ঠিক তেমনি একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ও সকলের উপকারে, দেশের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যবসাও দাঢ় করানোর ইচ্ছে কিন্তু লকডাউনের পর আর ব্যবসা দাঢ় করানো সম্ভব হয় নি। তার স্বপ্ন অনেক বড় বলেও জানান তিনি।
কথা চৌধুরী জানান, সাফল্যের পরে ই বিয়ের পিড়িতে তিনি বসতে চান। বর্তমানে নাটক নিয়ে তিনি ব্যস্ত, পচুর কাজ রয়েছে বলেও জানান তিনি। অনেক মডেল নায়ক, নায়িকারা যোগ্যতা ছাড়া প্রোগ্রামে যায় অ্যাওয়ার্ড নেওয়ার জন্য, আমি এটা পছন্দ করি না। নিজের যোগ্যতায় অ্যাওয়ার্ড পাওয়াটাই পছন্দ করি। অনেক জায়গায় এখন অ্যাওয়ার্ড টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কাজের বিনিময়ে নয়, অন্য কিছু দিয়ে অ্যাওয়ার্ড পান অনেকে। আমাকেও অনেকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করে বলেন অ্যাওয়ার্ডের জন্য কিছু ইনভেস্ট করতে। আমি তখন সেটা প্রত্যাখ্যান করি।
দর্শকরা এখন ফোন চাপলে, এত ভালো ভালো কাজ দেখতে পাচ্ছে ইনভেস্ট ছাড়া। তাই ইনভেস্ট করে দেখার মত কেউ নেই। তাই হল বিমুখী হচ্ছেন দর্শকরা। বর্তমানে মারাত্মক গল্প হতে হবে, তাহলে আবার হল মুখি হবেন দর্শকরা। অভিনয়ের বিষয়ে জানান, অভিনয় পাগল মানুষদের মূল্যায়ন হয় না ইন্ডাস্ট্রিতে। অনেককে রাতারাতি নায়িকার সুযোগ দিয়ে দেয় ইন্ডাস্ট্রিতে আবার বছরের পর বছর কাজ করেও ভালো সুযোগ পায়না অনেকে।
শাকিব খান পসঙ্গে তিনি বলেন, শাকিব খান বছরে দুইটা ছবি করেন বিজনেস করার জন্য। এটা জাস্ট বিজনেস পলিসি। আর কিছু না।
কথা চৌধুরী মডেলিংয়ের পাশাপাশি গল্প লিখেন,উপন্যাস লিখেন। তিনি একটু ব্যতিক্রমধর্মী নামে প্রকাশ করেন তার লেখাগুলো। ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ছোট বেলায় প্রথমেই শিখানো হয় অজগর আসছে আমাকে খেয়ে দিবে, অর্থাৎ ছোট বেলায় ই আমাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তাই আমি এর ব্যতিক্রম কিছু গল্প ও উপন্যাস লিখি।
কথা চৌধুরী বলেন, আমি তো নায়িকা হবোই তারপরেও শুধু নায়িকা হতে চাই না, আমি একজন অভিনেত্রী হতে চাই, ভালো মানের অভিনেত্রী। আমি বিভিন্ন ক্যারেক্টারে নিজেকে সাজিয়ে গড়ে তুলে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।





