যেমন কাটল তারকাদের দুর্গোৎসব
ঢাকের বোলে আগমনী, মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর মেলা, শিউলির সুবাসে উৎসবের আমেজ—এভাবেই এসেছিল শারদীয় দুর্গোৎসব। দেখতে দেখতে ফুরিয়ে গেল পাঁচ দিনের আনন্দ। বিসর্জনের সুরে যখন বিদায়ের ক্ষণ, তখন কারও মনে জমেছে প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি, কারও চোখে স্বজন হারানোর নীরব বেদনা। উৎসবের এই রঙিন দিনগুলোতে শোবিজ তারকারাও মেতেছিলেন আনন্দে। কেউ পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে ঘুরেছেন মণ্ডপে মণ্ডপে, কেউ কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে খুঁজেছেন উৎসবের আনন্দ। আবার কারও কাছে এবারের পূজা হয়ে উঠেছে হারানো মানুষকে নতুন করে মনে করার উপলক্ষ।
পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবের রঙে বিদ্যা সিনহা মিম
আরও পড়ুন: সিঁদুরের আড়ালে বিষাদ, মল্লিকবাড়ির দশমীতে কোয়েল
ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। দুর্গোৎসবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি শারদীয় সাজে নিজের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। উৎসবের রঙ, কাছের মানুষের সঙ্গ আর আনন্দঘন মুহূর্তেই কেটেছে তার পূজার দিনগুলো।
মায়ের স্মৃতি বুকে নিয়েই মণ্ডপে পূজা চেরী
আরও পড়ুন: সামান্থার সুগন্ধি ব্যবসায় আয় ১২০ কোটি রুপি
দুর্গাপূজা মানেই একসময় মায়ের হাত ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে অভিনেত্রী পূজা চেরীর সেই চেনা দিনগুলো। মাকে হারানোর পর থেকে একাই পূজামণ্ডপে যান তিনি। এবারও উৎসবের প্রথম দিন থেকেই নিয়ম করে মণ্ডপে ঘুরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও ধরা পড়েছে তার একাকী পূজার মুহূর্ত।
মা দুর্গার কাছে পূজার প্রার্থনা, মানুষের সব দুঃখের অবসান হোক, অন্ধকার পেরিয়ে পৃথিবী ভরে উঠুক আলোয়। প্রতিটি হৃদয়ে জেগে উঠুক নতুন আশার আলো। উৎসবের আনন্দের মাঝেও যেন সেই প্রার্থনায় মিশে ছিল এক টুকরো আবেগ।
গানের ব্যস্ততায় বাঁধন সরকার পূজার উৎসব
উৎসবের দিন মানেই সবার ছুটি নয়। সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজার এবারের দুর্গোৎসব কেটেছে গানের অনুষ্ঠান আর কাজের ব্যস্ততায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজামণ্ডপেও গেছেন তিনি।
বিয়ের পর এটাই তাঁর প্রথম দুর্গাপূজা। ইচ্ছা ছিল উৎসবের অন্তত একটি দিন শ্বশুরবাড়ির এলাকা মুন্সিগঞ্জে কাটানোর। কিন্তু শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ঢাকাতেই কেটেছে তাঁর পুরো পূজা। নতুন জীবনের প্রথম দুর্গোৎসবে আনন্দের সঙ্গে দায়িত্বের হিসাবও মেলাতে হয়েছে এই সংগীতশিল্পীকে।
নিজের শহরে ফিরেও মায়ের অভাব বাপ্পীর
উৎসবের আনন্দ অনেক সময় পুরোনো স্মৃতির দরজাও খুলে দেয়। চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর এবারের দুর্গাপূজায় তেমনই ফিরে এসেছে মায়ের স্মৃতি। তাঁর কাছে দুর্গাপূজা মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। উৎসবের প্রথম দিকে ঢাকায় থাকলেও শেষ দুই দিন নিজের শহর নারায়ণগঞ্জে কাটিয়েছেন তিনি। তর বিশ্বাস, নবমী ও দশমীর সেরা আয়োজন হয় এই শহরেই।
কিন্তু নিজের শহর, নিজের বাড়ি—সবকিছু কাছে থাকার পরও এবারের পূজায় যেন কীসের অভাব অনুভব করেছেন বাপ্পী। দুই বছর আগে মাকে হারিয়েছেন তিনি। গত বছর পূজার সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় মায়ের অনুপস্থিতি ততটা অনুভব করেননি। এবার নারায়ণগঞ্জে ফিরে বাড়ির প্রতিটি কোণে, উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়েছে মায়ের কথা। আনন্দের দিনগুলো তাই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে স্মৃতি আর শূন্যতার এক মিশেল।
বিসর্জনের বিদায়েই নতুন শুরুর বার্তা খোঁজেন পূজা সেনগুপ্ত
সারা বছর নাচের ব্যস্ততায় কাটলেও দুর্গোৎসবের দিনগুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করেছেন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তার কাছে উৎসবের আনন্দ বয়সের গণ্ডিতে আটকে থাকে না। শৈশব থেকে বড়বেলা—দুর্গাপূজার উচ্ছ্বাস সব সময়ই আলাদা।
তবে পূজার নানা আয়োজনের মধ্যে বিসর্জনই সবচেয়ে বেশি টানে তাকে। কারণ, পূজা সেনগুপ্তর কাছে বিদায় মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রতিটি সমাপ্তির ভেতর লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা, নতুন করে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা। উমার বিদায়ের বিষাদেও তাই তিনি খুঁজে পান আগামী দিনের আশার আলো।
দিনে শুটিং, সন্ধ্যায় উৎসবের আমেজে মনোজ
গত বছর দুর্গাপূজার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ছিলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। এবার ইচ্ছা ছিল গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর। কিন্তু বাস্তবধর্মী একটি অনুষ্ঠানমালার শুটিংয়ের কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
দিনের আলোয় ক্যামেরার সামনে কাজ, আর সন্ধ্যা নামলেই পূজামণ্ডপে কিছুটা সময়—এভাবেই কেটেছে তাঁর দুর্গোৎসব। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল না হলেও কাজের ফাঁকে উৎসবের আবহে নিজেকে সামিল করেছেন এই অভিনেতা। ব্যস্ততার মধ্যেও যে উৎসবের জন্য একটু সময় বের করে নেওয়া যায়, মনোজের পূজার গল্প যেন সেই কথাই বলে।
আরতি আর সিঁদুরখেলায় সুষমার ভালো লাগা
শুটিংয়ের ব্যস্ততা থাকলেও দুর্গাপূজার আনন্দ থেকে দূরে থাকেননি অভিনেত্রী সুষমা সরকার। সন্ধ্যার পর নিয়মিত পূজামণ্ডপে গেছেন তিনি। সন্ধ্যা ও রাতের আরতি তার বিশেষ পছন্দের। আর বিজয়া দশমীর সিঁদুরখেলাও উপভোগ করেন এই অভিনেত্রী।
তাঁর কাছে দুর্গোৎসবের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন। উৎসব ঘিরে তৈরি হওয়া ভালোবাসা, সম্প্রীতি আর একে অপরের পাশে থাকার অনুভূতিই মুগ্ধ করে তাঁকে। প্রতিমার সামনে প্রার্থনা কিংবা সিঁদুরখেলার রঙ—সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজে পান মানুষের কাছাকাছি আসার আনন্দ।
এবারের দুর্গোৎসব তাই তারকাদের জীবনে রেখে যাচ্ছে নানা রঙের গল্প। কোথাও পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত, কোথাও কাজের ফাঁকে উৎসবকে ছুঁয়ে দেখা, আবার কোথাও প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাস। ঢাকের বাদ্যি থেমে যাবে, আলো নিভবে মণ্ডপের, দেবী ফিরবেন কৈলাসে। কিন্তু থেকে যাবে কিছু ছবি, কিছু স্মৃতি, কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা আর আগামী বছরের অপেক্ষা। উৎসব শেষ হলেও তার রেশ যে সহজে ফুরোয় না—তারকাদের দুর্গোৎসবের গল্পে যেন সেই চিরচেনা সত্যই ধরা পড়ে।





