জীবনরক্ষাকারী ৭৩৯ ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকার এখন থেকে জীবনরক্ষাকারী ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে। এর আগে এই ক্ষমতা আংশিকভাবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছিল।

সোমবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত রিটের শুনানি শেষে ১৯৯৪ সালে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধের দাম নির্ধারণের আংশিক ক্ষমতা দিয়ে জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৯৩ সালের সরকারি গেজেট পুনর্বহাল করেছেন।

আরও পড়ুন: বাড়ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ: ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

রায়ে আদালত সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদের আলোকে নির্দেশ দেন যে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, যিনি অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডলের সহায়তা পান। ওষুধ মালিক সমিতির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এস.কে. মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সৈয়দ এজাজ করিব।

আরও পড়ুন: একদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৫ জনের, হাসপাতালে ৩১১ জন

২০১৮ সালে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতে জানান, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১১ ধারায় সরকারকে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।

তবে ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলারের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ১৭৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয়। বাকি সব ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তরিত হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের হাতে সীমিত না রাখলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষকে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বেশি দামে কিনতে হয়।”

স্বাস্থ্য সচিব, ডিজি হেলথ, ডিজি ড্রাগ ও ওষুধ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথাও আদালত উল্লেখ করেছেন।