দেশে বাড়ছে বাতের রোগী, চিকিৎসা ব্যয়ে দারিদ্র্যের ঝুঁকি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাতরোগ। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় এবং রোগীদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলো ‘ক্রমাগত দারিদ্র্যের’ ঝুঁকিতে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের শঙ্কা

সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের এক গবেষণায় দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। আক্রান্তদের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। এছাড়া ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী বছরের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষমতা হারান।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এ হিসাবে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের অন্যতম কারণ বাতরোগ এখনো জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস। তিনি বলেন, বাতরোগের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি রোগীর আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারে দ্বিগুণ আর্থিক চাপ তৈরি হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। এতে তাঁদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংকট বাতরোগের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান বাধা।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, যথাসময়ে টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের ওপর গুরুত্ব দেন।

অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম আরও জানান, পিএনআরএফআর ট্রাস্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দুস্থ রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা ও স্কলারশিপ বাবদ ১ কোটি টাকার বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের জন্য ‘সাপোর্ট সেন্টার বুথ’ ও বিশেষ ‘সার্ভিস কার্ড’ চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রিউমাটোলজি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুর ইসলাম, মো. জহিরুল ইসলাম ও ড. আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।