টাকার কার্লসনের টিভি শো

গাজার নিষ্ঠুরতায় স্তম্ভিত মার্কিন সেনার মন্তব্য "এরা অ-আমেরিকান"

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:৫৯ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় শিশুদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক শিশুর মৃত্যুর বর্ণনা দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন গ্রিন বেরেট লেফটেন্যান্ট কর্নেল টনি আগালার। সম্প্রতি ফক্স নিউজের আলোচিত উপস্থাপক টাকার কার্লসনের শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য ত্রাণের নামে তৈরি করা বিতরণ কেন্দ্রগুলো আসলে পরিকল্পিত "মৃত্যু ফাঁদ", যেখানে মানুষ খাবার নিতে এসে প্রাণ হারাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি গাজায় দেখা এক শিশুর কথা বলেন— যার নাম ছিল আমির। বাদামী চোখের এই ছোট্ট ছেলেটিকে তিনি নিজ সন্তানের মতো দেখেছিলেন। আমির মাটিতে পড়ে থাকা চাল, ময়দা ও ডাল কুড়িয়ে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ সাইট থেকে বের হয়ে গেলে, আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) তাকে গুলি করে হত্যা করে।

আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে মানুষ

টনি বলেন, আমি নিজে তার কাঁধে হাত রেখে হাঁটু গেড়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম— ‘মানুষ ভাবে, আমেরিকা ভাবে, তোমাদের ভুলে যাবে না’। সে ইংরেজি বুঝে না, আমি আরবি বুঝি না, কিন্তু আমরা একে অপরের অনুভব বুঝতে পেরেছিলাম। সে আমার মুখে হাত রেখে চুমু খেয়ে বলেছিল, ‘থ্যাংক ইউ’। এই সাইটগুলো দুর্ঘটনাবশত নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃত্যু ফাঁদ বানানো হয়েছে। তারা আসার পথেও গুলিবিদ্ধ হয়, যাওয়ার পথেও।

সাক্ষাৎকারে টনি আগালার জানান, প্রতিবার এই বিতরণ সাইটগুলোতে সাহায্য দেওয়া হলে কাছাকাছি নাসের হাসপাতালে গৃহীত হয় শত শত আহত মানুষ। স্থানীয় চিকিৎসকেরা একে "Mass Casualty Incident" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আরও পড়ুন: নেপালে মানবিক বিপর্যয়: বন্যায় ভেসে গেছে মরদেহ, মর্গেও জায়গা নেই

তিনি এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “২৫ বছরের যুদ্ধজীবনে আমি এমন বর্বরতা আর কোথাও দেখিনি। এটা অ-আমেরিকান।”

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।