উলিপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দ ৮৬ লাখ টাকার কাজে প্রশ্ন
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে মেরামত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদারের যোগসাজশের কথাও একাধিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে কাজের অসঙ্গতি দেখা গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রথম ধাপে ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৭ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৫৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই ধাপে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা
বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা এবং দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ, দরজা-জানালা, বেঞ্চ-ডেস্ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জরুরি সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা হয়নি। কোথাও কেবল কয়েকটি এলইডি বাল্ব স্থাপন, কোথাও আংশিক রং, কোথাও অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ কিংবা মাঠে সামান্য মাটি ফেলার কাজ দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় তার চুরি করতে এসে শর্টসার্কিটে প্রাণ গেল চোরের
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, কিছু বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। আবার কোথাও জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন না থাকলেও নতুন মালামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দেড় লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে কেবল বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের আংশিক মেরামত করা হয়েছে।
বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি এলইডি বাল্ব স্থাপন, গাইড ওয়ালের আংশিক মেরামত এবং সীমিত পরিসরে রং করার কাজ দেখা গেছে।
খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল হক জানান, বরাদ্দের ১ লাখ টাকা দিয়ে টয়লেট রং, ছাদ বাগানের সংস্কার এবং সোলার লাইনের মেরামত করা হয়েছে।
দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি মাত্র ২৬ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং সেই অর্থ দিয়েই কাজ সম্পন্ন করেছেন।
দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়েছে।
বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার আব্দুল্লাহেল কাফী দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং তা যথাযথভাবে ব্যয় করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কাজ বুঝে নেবেন। তবে ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও ভোটের আগে বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও কেন কাজ সম্পন্ন হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জবাব দেননি।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, বরাদ্দ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবকাঠামোগত কাজ শতভাগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেউ অনিয়ম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





