শ্রীলঙ্কায় বন্যায় নিহত ১৩২, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:৫২ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় কমপক্ষে ১৩২ জনের মৃত্যু এবং ১৭৬ জন নিখোঁজ হওয়ার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ ও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণের কারণে দেশজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস এবং ৭৮ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়ে জরুরি আইন জারি করেছেন।

আরও পড়ুন: বন্যায় ইন্দোনেশিয়া-থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে মোতায়েন করে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শনিবার সামরিক বাহিনী অনুরাধাপুরা জেলায় এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন বাসযাত্রীকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও নৌকাও ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসযাত্রী শান্তা বলেন, “নৌবাহিনীর সদস্যরা রশি ব্যবহার করে আমাদের ছাদের দিকে নিয়ে গেছেন। এক অংশ ধসে তিনজন নারী পানিতে পড়লেও তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।” হেলিকপ্টার প্রথমে উদ্ধার কার্যক্রম বাতিল করলেও পরবর্তীতে নৌকায় করে মানুষদের নিরাপদে তোলা হয়।

আরও পড়ুন: হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮

বদুল্লা জেলায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা বলেন, “গ্রামে দু’জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্যরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ বাড়িতে অবস্থান করছে। খাবার ও পানির তীব্র ঘাটতি রয়েছে।”

বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বন্ধ হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া এবং পানি পরিশোধন কেন্দ্র ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া লঙ্কা দ্বীপ থেকে সরে গিয়ে উত্তরে ভারতের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দর ঝড়ের কারণে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যেতে পারে।

মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরের প্রধান সড়কের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও ত্রাণ ও নগদ অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কার প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি জানিয়েছেন। ভারতের দুটি বিমান ইতোমধ্যে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরবরাহ দিয়েছে।

২০১৭ সালের পর এটি শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চলতি শতকের শুরু থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।