মধ্য গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার আরও ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ন, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১:২০ অপরাহ্ন, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র দিন যত যাচ্ছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুদ্ধ থামলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও একের পর এক লাশ উদ্ধার হচ্ছে। সর্বশেষ মধ্য গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৯৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গাজার সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংস হয়ে থাকা ভবন ও আবাসিক এলাকার নিচ থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো শনাক্তকরণ, ময়নাতদন্ত ও দাফনের প্রস্তুতির জন্য গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার শহীদ কবরস্থানে দাফন করা হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে এখনও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তারা ইতোমধ্যে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন স্থানে সমাহিত করা বহু মরদেহ গাজার স্থায়ী কবরস্থানে স্থানান্তর করেছে। তবে উদ্ধার কার্যক্রমের সীমিত সক্ষমতা ও ধ্বংসস্তূপের বিশালতা এই কাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ১০০ জনের বেশি।

গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিচ্ছিন্ন হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।