ইরানের জলসীমা থেকে নিজেদের জাহাজকে দূরে থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৯ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে তাদের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হরমুজ প্রণালির মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী নৌপথ নিরাপদ রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।

মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে এবং ইরানি বাহিনী যদি জাহাজে ওঠার চেষ্টা করে, তা মৌখিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে এ সময় ক্রুদের ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে নির্বাচনে ভূমজাইথাইয়ের নিরঙ্কুশ জয়

নির্দেশনার পটভূমিতে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা। মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বরাবরই বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌপথগুলো হুমকির মুখে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দুই দেশই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল, যা ইতিহাসে 'ট্যাংকার যুদ্ধ' নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, শিশুসহ মৃত ৫৩

সম্প্রতি গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতেই এই হামলা।

গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা চালানোর পর এক ইরানি আইনপ্রণেতা হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ বাড়লে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করা এই প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই প্রণালিতে নৌ মহড়া চালায়। তখন যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছিল, তেহরান যেন 'অনিরাপদ ও অপেশাদার' আচরণ না করে। পরে মার্কিন বাহিনী দাবি করে, তাদের একটি বিমানবাহী রণতরির কাছে চলে আসা একটি ইরানি ড্রোন তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বেশ কয়েকবার ইরানি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে। ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছিল, ওমান উপসাগরে তাদের জলসীমায় চারটি জাহাজে অন্তর্ঘাতমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষের প্রকাশ্য হুমকির খবর পাওয়া যায়নি। যদিও গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতই নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের সময় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও লক্ষ্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা চান আলোচনা শুধু 'পারমাণবিক' ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকুক। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চায় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় আসুক।

দুই দেশের আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ইরান দাবি করে, পারমাণবিক অস্ত্র তাদের লক্ষ্য নয়; জ্বালানি ও গবেষণার জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের অধিকার।

তবে ট্রাম্প চান ইরান যেন কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে—তার অবস্থান 'শূন্য সমৃদ্ধকরণ'।

এ বিষয়ে আর্মেনিয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প নিজেই। দর-কষাকষির স্বার্থে তিনি এখনই সব শর্ত প্রকাশ করছেন না।

ভ্যান্স আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি গঠনমূলক চুক্তির চেষ্টা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে। তার মতে, ইরান যদি এতে রাজি হয়, তবে তা তাদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে।