ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩০ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং বেসরকারি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

পরিপত্রে আরও জানানো হয়, ভোটগ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া ভোট গণনার বিবরণী অনুযায়ী প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ করে পরিবেশন কেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে।

ফলাফল ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদন

আরও পড়ুন: ইসির নতুন প্রজ্ঞাপন: ভোটকেন্দ্রে যাদের মোবাইল নেওয়ার অনুমতি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা এবং নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আলাদাভাবে জানানো হবে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্ধারণ করবেন—কারা ফলাফল পাঠাবেন এবং কারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠাবেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে কি না, তা আগেই যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তা শিটের মাধ্যমে ফলাফল প্রেরণ

ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে নির্ধারিত ‘বার্তা প্রেরণ শিট’-এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। ইন্টারনাল সাইটে সমস্যা হলে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানো যাবে।

অনিবার্য কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর করতে না পারলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরে আংশিক ফলাফল পাঠানো যাবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের ক্ষেত্রে অবশ্যই রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে। ফলাফল আরএমএসে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।

আজ ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইএমএস সফটওয়্যারে ফলাফল ব্যবস্থাপনা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ব্যবস্থাপনার জন্য ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে থাকা ইএমএস সফটওয়্যারের নির্ধারিত মডিউল ব্যবহার করা হবে। ফলাফল এন্ট্রি ও প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের পাশাপাশি ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহ করা গ্রামীণ ও টেলিটকের সিমযুক্ত মডেম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমেও সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই ভোটকেন্দ্রের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গে এন্ট্রি করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।