ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ৬ শর্ত, শুরু হচ্ছে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ছয়টি কঠোর শর্তে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবুও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল ও কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এই কূটনৈতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে এবং এই সময়ের মধ্যেই আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে প্লেন-গাড়ির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪

সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কয়েকটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, আগামী পাঁচ বছর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরডোর পারমাণবিক স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। পাশাপাশি হিজবুল্লাহ, হুথি ও হামাসের মতো আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও তাদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান শর্ত সামনে আনা হয়েছে—অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে আর হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি বন্ধে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ইরানের

তবে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত যুদ্ধবিরতি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নমনীয় অবস্থানে নেই। যদিও জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও মিসর, কাতার ও যুক্তরাজ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বার্তা আদান-প্রদান করছে। যুক্তরাষ্ট্র কাতারকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করছে, যদিও দোহা এখনো প্রকাশ্যে সে ভূমিকা নিতে অনিচ্ছুক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।