ইরানের জাহাজ আটক: উত্তেজনা বাড়ছে, শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও তীব্র উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

সোমবার ইরানের একটি কার্গো জাহাজ আটক করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। এর পরপরই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে ইরানপন্থী সূত্র। ফলে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায় ইরান।

আরও পড়ুন: ইসরাইল-লেবানন উত্তেজনায় নতুন আলোচনা বৃহস্পতিবার

এদিকে আলোচনাকে ঘিরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি শহরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো যাত্রা করেননি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তার এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের চাপ’ বলছে ইরান, নতুন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মন্তব্য করেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধই শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা। একই অবস্থান থেকে ইরানও জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনেই ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।