ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেট বন্ধের চিন্তায় ইসরায়েল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, ২১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে ইসরায়েল।

বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইসরায়েলের এক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

সূত্রটি জানায়, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট বন্ধ করা হলেও তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস খোলা থাকবে। তবে সেখানে কোনো কূটনৈতিক কর্মকর্তা থাকবেন না। ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরপরই সেখানকার সব ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত কনস্যুলেট থেকেও সে সময় সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে আঙ্কারার দূতাবাস ও ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট—দুই মিশনই স্থানীয় তুর্কি কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ইসরায়েলি সূত্রটি আরও জানায়, ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ফাঁকা পড়ে থাকা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাদের মতে, ব্যবহৃত না হওয়া একটি ভবন ধরে রাখতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

গত ৭ এপ্রিল কনস্যুলেট ভবনের কাছে একটি গুলির ঘটনার পর থেকেই এ আলোচনা জোরদার হয়। যদিও এখন পর্যন্ত হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ধর্মকে পুঁজি করা একটি সংগঠনকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে তুরস্ক ইসরায়েলে একজন অন্তর্বর্তীকালীন দূতের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছে।

• তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কে চরম উত্তেজনা

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বারবার ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

এরদোয়ান ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং তাকে গণহত্যার খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে তুরস্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১৫ হাজারের কাছাকাছি; যা ১৯৫০-এর দশকে ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। ১৯৪৯ সালে প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তুরস্ক।

ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে দুই দেশ আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। ২০১০ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজা অভিমুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের পর এই সম্পর্কের ফাটল ধরে। তুরস্কের পতাকাবাহী ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনীর সেই কমান্ডো হামলায় আটজন তুর্কি নাগরিকসহ ৯ জন অধিকারকর্মী নিহত হন।

সোমবার ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় থাকা আরেকটি নতুন ফ্লোটিলা বা নৌবহরকে অবরুদ্ধ করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজার অবরোধ ভাঙার এটি ছিল তাদের তৃতীয় প্রচেষ্টা। এই নৌবহরটি গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।


সূত্র: এএফপি।