উত্তর ইরাকে গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, এরবিলে একাধিক বিস্ফোরণ

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:০১ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের বৃহত্তম ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ হামলায় উত্তর ইরাকের জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাতে সুলাইমানিয়া জেলার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: সিয়াটলে স্পেস নিডলের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ২

একই সময়ে হামলাস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মধ্যরাতের এসব বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

ইরাকি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ এরবিলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ৬ জাহাজকে বাধা দেওয়ার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খালিফান ও সোরান এলাকার কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এগুলোকে ইরানি ড্রোন বলে সন্দেহ করছে।

পুলিশের দাবি, হামলার পর আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদারে এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও সামরিক ড্রোন টহল দিতে দেখা গেছে। হামলার ফলে কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় টানা ১৩ রাতের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্তের পর উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি হামলা কমে এলেও উত্তর ইরাকে নতুন এই ড্রোন হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ বেড়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের একাংশে অস্ত্রের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখার দাবি করা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুযোগ দিতেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

সোমবার মিশিগান সফরের পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই ভালো অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সেই আশাবাদের মধ্যেই উত্তর ইরাকে খোর মোর গ্যাসক্ষেত্র ও এরবিলে ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।