কাপাসিয়ায় আনন্দ টিভি'র প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আনন্দ টিভি'র প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব এবং কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে কাপাসিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা এ প্রতিবাদ জানান। কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বা পেশাগতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ দেখলেন পুলিশ সদস্য
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সঞ্জীব কুমার দাস, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাকির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শফিকুল আলম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, এনটিভির কাপাসিয়া প্রতিনিধি এখলাছ উদ্দিন, সাংবাদিক তপন বিশ্বাস, উত্তম দাস, হাবিবুর রহমান হাবিব, মিজান খান শিমুল বিশ্বাস, এস এম হাবিবুর রহমান, নান্নাসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই রাতে ফাতেহা মাহমুদা ইভা (৫৭) নামে এক নারী কাপাসিয়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় কাজ শেষে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
মামলার অভিযোগে বলা হয়, কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাফাইশ্রী মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে গত ১৯ জুলাই বাদীর দাবি করা জমিতে স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান রাসেল, মাসুদ পারভেজ চৌধুরী, মানিক চন্দ্র বর্মন, শংকর চন্দ্র বর্মনসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে মামলার অন্যতম আসামি ও আনন্দ টিভির কাপাসিয়া প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, কখনও তার সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা কথা-কাটাকাটিও হয়নি। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়িয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এর জের ধরেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই কাপাসিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তারা বলেন, তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া যায়, তাহলে নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, "মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।"
স্থানীয় সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।





