রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:১২ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্বয়ং-অনুঘটন বা অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিজ্ঞানী হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

নোবেল সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের পর তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে রসায়নে নোবেল ঘোষণা করা হলো। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হেইনার লিংকে বলেন, এবারের পুরস্কার মৌলিক রসায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ঘিরে।

তিনি বলেন, অনেক অণু দুটি ভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। মানুষের দুই হাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, দুটি হাত একে অপরের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতো হলেও তারা অভিন্ন নয় এবং একটির ওপর আরেকটি পুরোপুরি বসানো যায় না। এ ধরনের অণুকে ‘কাইরাল’ বলা হয়। গ্রিক শব্দ ‘হাত’ থেকেই ‘কাইরাল’ শব্দটির উৎপত্তি।

আরও পড়ুন: পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা গ্রেপ্তার

সুইডিশ উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইলে প্রতিষ্ঠিত নোবেল পুরস্কার ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়ে আসছে। বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়েকবার ছাড়া প্রায় প্রতিবছরই এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পেশায় রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল উনিশ শতকে বিভিন্ন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তার আবিষ্কারের বড় একটি অংশ যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিনামাইট। পরে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে দেওয়া নোবেল পুরস্কারের তুলনায় রসায়নের পুরস্কার অনেক সময় কম আলোচিত হলেও এ পুরস্কারের মাধ্যমে পারমাণবিক বিভাজন ও জিনগত সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার স্বীকৃতি পেয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াগি। ধাতু-জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এসব আণবিক কাঠামো জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এবারের নোবেলজয়ীরা আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফের কাছ থেকে পদক গ্রহণ করবেন। দিনটি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর স্টকহোম সিটি হলে ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজের আয়োজন করা হবে।

নোবেলজয়ীরা মোট ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা অর্থ পুরস্কার হিসেবে ভাগ করে নেবেন, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান পুরস্কার জয়ের স্বীকৃতি।

নোবেল পুরস্কারের মধ্যে একমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার সুইডেনে দেওয়া হয় না। এটি প্রতিবছর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে প্রদান করা হয়।