বর্ষায় কেন বাড়ে ফুড পয়জনিং, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষাকালে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, বমি বা পেটব্যথার মতো উপসর্গ অনেকেরই দেখা দেয়। এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে খাদ্য ও পানিতে জীবাণুর দূষণ। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে এ সময়ে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বর্ষায় ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি কেন বাড়ে?

আরও পড়ুন: রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালেই বাড়তে পারে যেসকল রোগ

উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ই. কোলাই, সালমোনেলা ও ভিব্রিও কলেরির মতো ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এসব জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বর্ষার পানি বা বন্যার পানি কখনো কখনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দূষণ ঘটাতে পারে। ফলে দেখতে স্বচ্ছ হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কলের পানিও নিরাপদ নাও হতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত আর্দ্রতায় রান্না করা খাবার, দুগ্ধজাত খাবার ও কাটা ফল দ্রুত নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘসময় বাইরে রাখা খাবারে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে। পানি জমে থাকা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের পানি খাবার বা পানির উৎসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

আরও পড়ুন: পছন্দের খাবার দেখলেই কেন জিভে জল আসে? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

রাস্তার খাবারের দোকানেও এ সময়ে ঝুঁকি বাড়তে পারে। অপরিষ্কার পানি, অপর্যাপ্ত হাত ধোয়া, খাবার খোলা অবস্থায় রাখা এবং মাছি বা অন্যান্য কীটপতঙ্গের মাধ্যমে খাবার দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, নোরোভাইরাস ও রোটাভাইরাসের মতো ভাইরাসও খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

কীভাবে ফুড পয়জনিং থেকে নিরাপদ থাকবেন?

  • বর্ষায় খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
  • নিরাপদ পানি পান করুন। পানি ফুটিয়ে, উপযুক্তভাবে ফিল্টার করে অথবা মুখবন্ধ বোতলজাত পানি পান করা যেতে পারে।
  • কাঁচা বা আধসেদ্ধ রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে কাটা ফল, চাট এবং অনিরাপদ পানি বা বরফ দিয়ে তৈরি পানীয় থেকে সতর্ক থাকুন।
  • ফল ও শাকসবজি খাওয়ার বা রান্নার আগে পরিষ্কার চলমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • রান্না করা খাবার দীর্ঘসময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেবেন না। দ্রুত সংরক্ষণ করুন এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করে নিন।
  • খাবার ধরার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
  • খাবার ও পানির পাত্র পরিষ্কার রাখুন এবং নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন। ফুটানো পানিও অপরিষ্কার পাত্রে রাখলে পুনরায় দূষিত হতে পারে।
  • বর্ষাকালে কাঁচা ঝিনুক ও অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলুন।

বর্ষায় পেটের সমস্যা হলেই সেটিকে সাধারণ বদহজম ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। বারবার বমি বা ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, পানিশূন্যতার লক্ষণ বা উপসর্গ গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।