স্মার্টফোন শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ন, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:১১ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আধুনিক যুগে স্মার্টফোন এখন আর শুধু বড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের প্রয়োজনে খুব অল্প বয়সেই অনেক শিশুর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্টফোন। তবে ছোট বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২ বছর বয়সের আগে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করলে শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক—উভয় ধরনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ১২ বছর হওয়ার আগেই স্মার্টফোন পেয়েছে, তাদের মধ্যে অবসাদ, স্থূলতা এবং ঘুমের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন: অপর্যাপ্ত ঘুমে শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব, বলছে গবেষণা

এই গবেষণায় ১০ হাজারের বেশি শিশুর দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও আচরণ নিয়ে এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ গবেষণা হিসেবে বিবেচিত। গবেষকরা জানান, শিশুর বয়স যত কম থাকে, স্মার্টফোনের প্রভাব তত বেশি গভীর হয়।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ১২ বছরের আগে ফোন ব্যবহার করা শিশুদের মধ্যে রাতে দেরি করে ঘুমানো, ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া এবং মানসিক অস্থিরতার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। একইসঙ্গে ফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে তারা বাইরে খেলাধুলা কম করে, শারীরিক নড়াচড়া কমে যায় এবং এতে দ্রুত ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: গ্রীষ্মে বাড়ছে নানা রোগের ঝুঁকি, যেসব অসুস্থতায় থাকতে হবে বেশি সতর্ক

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগও কমে যেতে পারে। বাস্তব বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে তারা স্ক্রিনের মধ্যেই বেশি সময় ব্যস্ত থাকে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকদের মতে, কিশোর বয়স মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সামাজিক যোগাযোগ অপরিহার্য। কিন্তু স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এই তিনটি ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানসিক চাপে পরিণত হতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব শিশু ১২ বছর বয়স পর্যন্ত স্মার্টফোন পায়নি, তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তারা ফোন ব্যবহার শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে মনোযোগ কমে যাওয়া, সহজে বিরক্ত হওয়া এবং ঘুমের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স, সময়সীমা ও কনটেন্টের ওপর অভিভাবকদের সচেতন নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।