বুকের ব্যথাটা গ্যাসের নাকি হার্টের, কীভাবে বুঝবেন

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৫ অপরাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সকাল থেকে বুকে কেমন অস্বস্তি আর ব্যথা। আগের দিন দাওয়াতে ভালোমন্দ খেয়েছেন; ভাবছেন, তাই হয়তো গ্যাস হয়ে এমন লাগছে। এই ভেবে বাড়িতে থাকা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, অ্যান্টাসিড সিরাপ সবই খেলেন। কিন্তু ব্যথা তীব্রতর হচ্ছে, খারাপ লাগছে। শেষ পর্যন্ত গেলেন চিকিৎসকের কাছে। পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নিয়ে দেখা গেল, ব্যথাটা হার্টের ব্যথার মতো। ইসিজি করার পর আশঙ্কার সত্যতা পাওয়া গেল। জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি হলেন হাসপাতালে। এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন বটে, তবে বড় ধরনের অঘটন হতেও পারত, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত ছিল। এ কারণে কোনটি হার্টের ব্যথা আর কোনটি গ্যাসের ব্যথা, তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

বুকে ব্যথার ধরন

আরও পড়ুন: পোস্ট-হলিডে সিনড্রোম কাটিয়ে যেভাবে সতেজ হবেন

‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে। আর আছে বুকের মাঝখানে কিংবা নিচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এ ব্যথা বাড়তে পারে। ভারি খাবার খেয়ে শোবার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’। অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। আর শ্বাস টানার সময়ে কিংবা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।

বুকে সারাক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। পানি জমছে ফুসফুসে। আর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু এটি হয় পালমোনারি এমবলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে। অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: ঈদে ভারি খাবার খেয়ে সুস্থ থাকবেন যেভাবে

হৃদরোগের ব্যথার লক্ষণ

হৃদরোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছুটা আলাদা হয়। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এ ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয়, তাহলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।