সোমবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপ উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

কক্সবাজারে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডার সংলাপ, যেখানে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংলাপ উদ্বোধন করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সংলাপে গৃহীত সুপারিশসমূহ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের রোহিঙ্গা সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন
তিনি বলেন, “এই সংলাপ মূলত সেপ্টেম্বরের বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক ধাপ। এর বিশেষ তাৎপর্য হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। তারা এখানে তাদের আশা, হতাশা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা জানাবেন, যা নিউইয়র্ক সম্মেলনের আলোচনায় প্রতিফলিত হবে।”
সংলাপ চারটি থিম্যাটিক অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে—
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন
- মানবিক সহায়তা ও চলমান তহবিল সংকট মোকাবিলা
- রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ও প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা গড়ে তোলা
- ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
- টেকসই ও সময়োপযোগী সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল
পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, আলোচনার শেষে একটি ‘চেয়ার’স সামারি’ প্রণয়ন করা হবে, যেখানে আলোচনার মূল সারসংক্ষেপ ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি নিউইয়র্ক সম্মেলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে বলেন, “সহায়তা না পেলে মারাত্মক মানবিক দুর্যোগ তৈরি হতে পারে। তাই নতুন উৎস থেকেও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।”
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সিয়াম বলেন, এ প্রক্রিয়া শুধু বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করছে না; মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও আস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে আয়োজিত এ সংলাপে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ।