গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না: অধ্যাপক আলী রিয়াজ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, এবারের গণভোটে "হ্য্যা" জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না। গত ১৬ বছর নির্বাচনের নামে যেসব প্রতারণা হয়েছে, সেগুলোর পথ চিরতরে বন্ধ হবে। তিনি বলেন, অতীতে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম যেন দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি গড়ে তোলা যায়। কিন্তু ব্যাপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এ ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয়। তবে আসন্ন গণভোটে জনগণ সম্মতি দিলে দেশে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

আজ সোমবার রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

গণভোটের প্রচারণা ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগের ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বারো শতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, "বাংলাদেশ দুর্নীতি ও লুটপাটের এক ভয়ংকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের এমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন ছিল যারা এই লুটপাট বন্ধ করতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বারবার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই জুলাই সনদ ও গণভোট অপরিহার্য।"

তিনি আরও বলেন, "এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো গণভোট হয়েছে, এবারের গণভোট তার থেকে অনেকখানি ভিন্ন। বিগত সরকারগুলো ক্ষমতায় থেকে গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিল। এবার আসন্ন গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করবে সেই দল যা নির্বাচনে জয়ী হবে।"

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, "গত ১৬ বছর আমরা একটি দানবীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসেছি। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের অর্জনগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীনতার জন্য জীবন ও রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু ৫৪ বছরে আমরা সেই স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। তাই এবারের রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ব্যর্থ হলে স্বাধীনতার স্বপ্নও ব্যর্থ হবে।"

ইমাম সম্মেলনের সভাপতি আঃ ছালাম খান উপস্থিত আলেম সমাজকে গণভোট বিষয়ে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "গত ১৬ বছর আমরা অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। আর ফিরে যেতে চাই না। গণভোটের মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে গেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ঋণ শোধ হবে।"

এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর পরিচালক মোঃ ইমামুল ইসলাম, রাজশাহী কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।