নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ালেন সিইসি

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়ে গেল রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন রেখাচিত্র। শপথ মঞ্চে দাঁড়িয়ে একদিকে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার—এই দ্বন্দ্বেই শুরু হলো নতুন সংসদের পথচলা। নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নবনির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিপরীতে প্রথমে আপত্তি তুলেও শেষ পর্যন্ত দুটি শপথই নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় দুই রঙের দুটি ফরম—সাদা (সংসদ সদস্য) ও নীল (সংবিধান সংস্কার পরিষদ)। বিএনপির সদস্যরা সাদা ফরমে শপথ নিয়ে নীল ফরমে সই না করে কার্যত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন

নির্দেশনার রাজনীতি:

শপথ শুরুর আগে কক্সবাজার–১ থেকে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় এমপিদের বলেন, তাঁরা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান তৃতীয় তফসিলে যুক্ত ও শপথ পাঠকারীর বিষয় নির্ধারিত হলে তবেই সেই শপথ সম্ভব। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: শপথ গ্রহণের সঙ্গে ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

আপত্তি থেকে অংশগ্রহণ:

সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ঘোষণা দিয়েছিলেন—বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে জামায়াতও কোনো শপথ নেবে না। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই তারা প্রথমে সংসদ সদস্য, পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়। শপথ বাক্য পাঠ করান সিইসি নাসির উদ্দিন।

এনসিপির ছয় সদস্যও প্রথমে আপত্তি তুললেও শেষ পর্যন্ত দুটি শপথই নেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ-এর সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

ঢাকা–৬ থেকে নির্বাচিত বিএনপির ইশরাক হোসেন পরে এসে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেননি।

ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপট:

সাধারণত স্পিকারের কাছ থেকে শপথ নেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে। সংবিধান অনুযায়ী তাই সিইসিই শপথ পাঠ করান—যা এ সংসদের সূচনাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

সংসদে নতুন মুখের ঢল:

২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১৪টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি এবং স্বতন্ত্ররা ৭টি আসন। ত্রয়োদশ সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন—প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন ২২৭ জন। পাঁচ দলের প্রধান এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রথম দিনের বার্তা পরিষ্কার—সংসদের ভেতরে ‘সংস্কার’ ইস্যুতে দ্বন্দ্বই হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা বনাম রাজনৈতিক অঙ্গীকারের এই টানাপোড়েনেই নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গতি-প্রকৃতি।