মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় শাহজালাল বিমানবন্দরে এক মাসে ৮৯৪ ফ্লাইট বাতিল

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০৯ অপরাহ্ন, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান নিরাপত্তা সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের বিমান চলাচলেও। গত এক মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ফ্লাইট চলাচলে নজিরবিহীন বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ আকাশসীমা বন্ধ রাখায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৮৯৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ নিরাপত্তা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে ওই দিনই ঢাকা থেকে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। গত ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসজুড়ে এই ধারা অব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

মার্চের প্রথম সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৩৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ (১ এপ্রিল) কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী আরও ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (ইউএই) ২টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি।

টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আকাশসীমা পুনরায় চালু না করা পর্যন্ত নিয়মিত ফ্লাইট শিডিউল বজায় রাখা কঠিন। এদিকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যাত্রীদের টিকিট রিফান্ড বা পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবস্থা করছে।

তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সময়সীমা জানা যায়নি।