রামিসা হত্যাকাণ্ড: রোববার চার্জশিট দাখিলের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আগামী রোববার (২৪ মে) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে হেঁটে বিএনপির কার্যালয়ে তারেক রহমান
সরকারি কাজ শেষে রাত ১০টার দিকে মিরপুরের ১১ নম্বরের বি ব্লকে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন মামলার চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি জানান, চার্জশিট জমার আগে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে এবং রোববার দুপুরের মধ্যেই তা শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর একই দিন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবে। একই সঙ্গে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী রামিসার বড় বোনের পড়াশোনার ব্যয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নিহত শিশুর পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে সাত বছর বয়সী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেন।





