কেউ আটক না হওয়ায় নানা রহস্য

ঢাকার বিমানবন্দরে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ আটকে তোলপাড়

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৬ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানের কার্গোতে যৌথ অভিযানে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বড় স্বর্ণ চোরাচালান আটকের ঘটনায় জড়িত বা সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় নানা সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। এটি আন্তঃদেশীয় চোরাকারবারি ও প্রভাবশালী চক্রের বড় একটি চালান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ভোরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি বেলা সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, এনএসআই এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানটির কার্গো হোলে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি

এদিকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ১৯ কেজি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হোল থেকে ৪৫ কোটি টাকার সোনার বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান।

এদিন অভিযানটি পরিচালনা করে গোয়েন্দা সংস্থা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল।

তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, কার্গো হোলে কীভাবে এগুলো রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানে আসা যাত্রীদের তালিকা নিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিমানের টিকিট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিমানবন্দরে ১৯ কেজি স্বর্ণের বার আটকের ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ঢাকার বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল ইসলাম বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, কাস্টমস গোয়েন্দার পক্ষ থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাবে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দেওয়া স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন যাত্রীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিমানবন্দরে স্বর্ণের এই বড় চালান আটকের ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তোলপাড় চলছে। দেশের প্রভাবশালী কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিমানের এই চালানটির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে আগাম তথ্য ছিল বলে জানা গেছে। গোয়েন্দাদের কাছে আসা স্বর্ণের চালানসংক্রান্ত আগাম তথ্য যাচাই-বাছাই করে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি চালানো হচ্ছে।