হুমায়ুন পররাষ্ট্র ও বকুল স্বরাষ্ট্র
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা আছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর মন্ত্রিসভা গঠন শুরু হবে এবং এর আকার নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল। বিএনপির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে ইতোমধ্যে অভিনন্দন জানানো হয়েছে এবং বর্তমানে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনে নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তাতে অভিজ্ঞ ও তরুণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কেউ কেউ যুক্ত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. আব্দুল মঈন খানকে স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয়ী হওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি দলকে এনে দিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত বিজয়। তার দলের এককভাবে সরকার গঠন এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা মাত্র। তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী; তার হাতেই উঠছে দেশের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: জনগণের রায়ে গণতন্ত্রের বিজয়, ঐক্যের আহ্বান তারেক রহমানের
দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ছিলেন—এমন একাধিক নেতা বলেন, অতীতে মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে নতুন বাস্তবতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে কঠোর কিন্তু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দেখা যেতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক-দুদিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এদিকে কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি কেমন মন্ত্রিসভা গঠন করবে, তা জানতে জাতিকে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই সরকার গঠিত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে মির্জা আব্বাস যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টেকনোক্র্যাট ও অন্যান্য বিশেষ দায়িত্বে যাদের নাম বিবেচনায় আছে তাদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয়, ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, রকিবুল ইসলাম বকুল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। এছাড়াও চিকিৎসক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে 'জাতীয় সরকার' গঠনের ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি। এর বাস্তবায়ন দেখা যেতে পারে নতুন মন্ত্রিসভায়। এর মধ্যে ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, ড. রেজা কিবরিয়া ও মোস্তফা জামাল হায়দারের নাম আলোচনায় আছে।





