গোপালগঞ্জ পদত্যাগের হিড়িক আওয়ামী লীগে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:০২ পূর্বাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান দলটির সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পালিয়ে যান তার সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী-এমপি এবং সরকারি আমলারাও। অনেকে আবার দেশে কারাবন্দি। এমনকি, দেশে থাকা দলটির উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীও গা-ঢাকা দিয়ে আছেন দীর্ঘদিন। মামলা-হামলা ও গ্রেফতার হওয়ার ভয় সারাক্ষণ তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাদের। 

এমন বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল-দুই বছর ধরে সবখানেই দলটি অভিভাবক-শুন্য। নেতাকর্মীদের দেখভালের যেন কেউ নেই। ভারতে পলাতক দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা মাঝেমধ্যে অডিও বার্তা দিলেও প্রকাশ্যে আসেন না। এই যখন অবস্থা, তখন খোদ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জেই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। গত তিন-চার দিনে জেলাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছেড়েছেন ৮০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী। এর মধ্যে রোববার ২ আগস্ট মুকসুদপুর উপজেলায় একদিনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৬৭ নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিন উপজেলা সদর, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তারা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগীরা বলেন, আজ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। আইন ও রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও জানান তারা। পদত্যাগীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দলের কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আবার কেউ অসুস্থতা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক ব্যস্ততাকেও পদত্যাগের নেপথ্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।এর আগে গত ১ আগস্ট একদিনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৮ জন নেতা। সেদিন দুপুরে মুকসুদপুর পশারগাতি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহমান মীরের কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ১৬ নেতা এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আরও ২ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ১৬ জন আওয়ামী লীগ ও দুজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পদত্যাগীদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগত কারণে দল ছেড়েছেন বলে জানান। কয়েকজন আবার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখতে চান না। তার আগে গত ২৯ জুলাই জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদপদবী থেকে পদত্যাগ করেন দলটির তিনজন নেতা। শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তারা যুক্ত নেই বলে জানান। এ তো গেল গত কয়েক দিনের হিসাব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীই পদত্যাগ করেছেন। একই পথে হেঁটেছেন দেশের অন্যান্য জেলায় থাকা দলটির অসংখ্য নেতাকর্মীও। এদিকে শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আগামী ৫ আগস্ট প্রথমবারের মতো ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে চলেছেন শেখ হাসিনা। সেখানে নাকি ভার্চুয়ালি সাবেক এমপি ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও উপস্থিত থাকবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কতটা আশার আলো দেখাবে শেখ হাসিনার আসন্ন ওই ভিডিও কনফারেন্স? তার এই প্রকাশ্য উপস্থিতিতে কি নেতাকর্মীদের ভাঙা মনোবল ফিরে আসবে, কিংবা পদত্যাগের হিড়িক কিছুটা কমবে? উত্তর সময়ই বলে দেবে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে তেজগাঁওয়ে বিএনপির বিক্ষোভ