এনসিপিতে যোগ দেওয়ায় যুবলীগের ৩ নেতা বহিষ্কার

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেওয়ার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের তিন যুবলীগ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবলীগ। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: ইটনা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কবির শ্যামল, জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান সোহেল এবং ইটনা উপজেলা যুবলীগের সদস্য বাছেত আহমেদ। রোববার (২১ জুলাই) রাতে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মীর আমিনুল ইসলাম সোহেল ও মো. রুহুল আমিন খানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, তিনজন নেতা এনসিপির ইটনা উপজেলা কমিটিতে যোগ দিয়েছেন এবং গোলাম কবির শ্যামল এনসিপির এক পথসভায় বক্তৃতাও দিয়েছেন, যা যুবলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে গঠনতন্ত্রের ২২(ক) ধারায় সকল স্তরের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

বহিষ্কারের পর নোটিশটি রাতেই ফেসবুকে পোস্ট করেন যুগ্ম-আহ্বায়ক রুহুল আমিন খান। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে গত শনিবার (২০ জুলাই) পুরানথানা এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় শ্যামলের বক্তৃতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

জানা গেছে, শ্যামলের বাবা ওমর ফারুক ইটনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। শ্যামল ২০১৮ সালেই যুবলীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইটনা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. নাজমুল ঠাকুর। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে শ্যামলের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গুলশানে রেস্তোরাঁয় বৈঠক, আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

তবে বহিষ্কৃত বাছেত আহমেদ (আসল নাম মো. বাছেদ মিয়া) সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি অনেক আগেই যুবলীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং এখন এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ গত ৫ জুনের স্বাক্ষরে ইটনা উপজেলা ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন। সেই কমিটিতে গোলাম কবির শ্যামল ২ নম্বর সদস্য, সোহেল ৪ নম্বর এবং বাছেত ১১ নম্বর সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও অন্য নেতাদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।