শোকজের পরই ‘উইথড্র’ অফিসার, ভোটের মাঠে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ১১ দলীয় জোটের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫০ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ১১–দলীয় জোট। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীকে শোকজ করার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং বা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই দিনই বা পরদিন দায়িত্ব থেকে ‘উইথড্র’ হয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্দিষ্ট দলে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের কাছে এসব অভিযোগ করেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

আরও পড়ুন: বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করলো জামায়াতে ইসলামী

সার্বিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এদিন ১১–দলীয় জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনে যান। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জোটভুক্ত ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে তাঁরা দেখেছেন—নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তিনি বলেন,

আরও পড়ুন: ৫০ গাড়ির শোডাউন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানাকে অব্যাহতি

“নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন—পুলিশ, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা, মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা—তাঁদের একটি অংশ অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।”

এনসিপি মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ওই সব ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে ফোন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে অপসারণ বা বদলির দাবি জানানো হয়েছে।

তবে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

 মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ক্ষোভ: 

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপি মুখপাত্র। তিনি বলেন,

“এটা আমাদের জন্য একেবারেই সারপ্রাইজ সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা চাই না এ ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হোক। নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রম আমাদের কাছে ইনফ্লুয়েন্সড মনে হয়।”

জামায়াতের অভিযোগ: পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিপন্থী।

তিনি বলেন,

“আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। খুলনার ডিআইজি, নাটোর ও শরীয়তপুরের এসপির বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়।”

ইসির আশ্বাস: 

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,

“নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে—এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। চিঠি ইতিমধ্যে রেডি হয়ে গেছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে, এটা ডান—আর হবে না।