ড. এমএ কাইয়ুম পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন
ঢাকা ১১ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ড. এমএ কাইয়ুমকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর বাড্ডা ভাটারা ও গুলশান এলাকায় বিএনপি'র জনপ্রিয় নেতা স্বাভাবিকভাবে হেরে গেছেন বিএনপি'র নতুন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এটি বিশ্বাস করতে পারছে না। নির্বাচনের আগেই সম্ভাব্য মন্ত্রীর তালিকায় তার নাম ছিল বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু রাজনীতির খেলায় হেরে যাওয়া তাকে মন্ত্রী করা নিয়ে ভাবছে নীতি নির্ধারকরা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের বিশেষ সরকারি আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন ঢাকা ১১ আসনে এম এ কাইয়ুমের পরাজয় কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না অবশ্যই এখানে অনিয়ম কারচুপি করা হয়েছে। দল বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।
আরও পড়ুন: আজ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি
জানাযার, ড. এম এ কাইয়ুমও তার পরাজয়ের অনিয়মের তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। নাহিদ ইসলামকে বিজয়ী করতেই এমএ কাইয়ুমকে পরাজিত করা হয়েছে। দল এম এ কাইয়ুম এর প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণ বিবেচনা করে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী নিয়োগে ভাবছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় স্থান দেওয়ার জোর আলোচনা এখন বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি'র নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায় মঙ্গলবার বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ সদস্যের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিতে পারে। সে হিসেবে চারজন মন্ত্রী নিয়োগ হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায নজরুল ইসলাম খান প্রবাসী কল্যাণ, রুহুল কবির রিজভী তথ্য ও সম্প্রচার, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র ও ড. এম এ কাইয়ুম সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এমএ কাইয়ুম কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তার ঝুলিতে রয়েছে বিএ ও এমএ ডিগ্রিসহ সম্মানসূচক ডি.লেট ডিগ্রি। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। স্বদেশ প্রপার্টিস লিমিটেড ও নাভিদ বিল্ডার্স লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তার মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছেন রিজভী
তৃণমূল পর্যায়ে থেকে দীর্ঘদিনের রাজনীতির পরীক্ষা থেকে উঠে আসা এমএ কাইয়ুমের রাজনৈতিক জীবন বর্ণাঢ্য এবং সংগ্রামের। ১৯৮১ সালে বৃহত্তর গুলশান থানা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে তার রাজনীতির যাত্রা শুরু। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বাড্ডা থানা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তার সফল নেতৃত্ব দলকে এক কঠিন সময়ে সুসংগঠিত করেছিল। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলে নানা জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিচলিত হননি এবং দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
১৯৯৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯ বছর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড সংযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে তিনি নিজেকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১০ (বর্তমান ঢাকা-১১) আসন থেকে চার-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়াই করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এমএ কাইয়ুম শুধু একজন নেতাই নন, তিনি বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা এলাকার সাধারণ মানুষের বিপদের বন্ধু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং আর্তমানবতার সেবায় তার অবদান অসামান্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণে তার বিরুদ্ধে শত শত মামলা দায়ের করা হয়। বিশেষ করে গুলশানে নাগরিক তাবিলা সিজার হত্যা মামল আমি কাইয়ুম ও তার ভাই পরিবারের সদস্যদের আসামি করে নজর বিন হয়রানি করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ির ঘর সহ অনেক সহায় সম্পদ বন্ধ করে দেওয়া হয়।





