বাংলাদেশের প্রতিনিধি যারা

১১৭টি দেশের অংশগ্রহণে সৌদিতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু

Shakil
বাংলাবাজার পত্রিকা রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৩ | আপডেট: ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৫
সংগৃহীত
সংগৃহীত

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় মক্কায় শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। ১০ দিন পর্যন্ত চলবে  আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ৪৩তম এ পর্বে অংশ নেবেন শতাধিক দেশের প্রতিযোগীরা।

সৌদির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আলে শায়খ জানিয়েছেন, খাদিমুল হারামাইনের সার্বিক সহযোগিতায় ৪৩তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

পবিত্র কোরআনের হিফজসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচটি বিষয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের ১১৭টি দেশের ১৬৬ প্রতিযোগী তাতে অংশ নেবেন। তাঁদের সহযাত্রী হিসেবে আরো ৫০ জন থাকবেন। প্রতিযোগিতার পাঁচ ক্যাটাগরিতে বিজয়ীরা ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল পুরস্কার পাবেন। প্রথম স্থান অর্জনকারী পুরস্কার হিসেবে পাবেন পাঁচ লাখ রিয়াল। 

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে। তা হলো- ১. শাতেবি পদ্ধতিতে সাত কিরাতসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ, ২. তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ এবং একক শব্দগুলোর তাফসির, ৩. তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ, ৪. তাজবিদসহ ১৫ পারা হিফজ, ৫. তাজবিদসহ পাঁচ পারা হিফজ (শেষোক্ত বিভাগটি শুধুমাত্র ওয়াইসিভুক্ত নয় এমন দেশের প্রতিযোগীদের জন্য প্রযোজ্য)।

আরও পড়ুন: রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট

বাংলাদেশের প্রতিনিধি যারা
৪৩তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দুজন হাফেজ অংশ নিয়েছে। তারা হলো, ফয়সাল আহমেদ ও মো. মুশফিকুর রহমান। তাদের অভিভাবক হিসেবে সঙ্গে রয়েছেন, মো. নেসার আহমেদ ও মোহাম্মদ নুরুল হাকিম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

জানা যায়, ফয়সাল আহমেদ রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় পড়াশোনা করেছে। তার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া। সে পূর্ণ কোরআন হিফজ ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে। অপর প্রতিযোগী মো. মুশফিকুর রহমান কক্সবাজারের মা’হাদ আন-নিবরাসে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। সে পবিত্র কোরআনের ১৫ পারা ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে। তাঁরা উভয়ে নিজেদের সাফল্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশি হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। তাজবিদসহ কোরআন মুখস্থ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হিসেবে তাকে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। 

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিচারক বাংলাদেশি আলেম
সৌদি আরবে চলমান আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি আলেম হাফেজ মাওলানা ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান। তাঁকে ৪৩তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন ও তাফসির প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।  ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত।

তিনি বিভিন্ন সময়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকায় আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ‘কুরআনের নূর’-এর বিচারক ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য ঈর্ষণীয় হলেও এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি আলেমদের বিচারক নিযুক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।