যে সমীকরণে এখনো বিশ্বকাপ খেলতে পারে ইতালি

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৮ অপরাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি জাতীয় ফুটবল দল-এর জন্য বিশ্বকাপ একসময় ছিল গৌরবের মঞ্চ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন ঘটেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার শঙ্কায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ইতালিজুড়ে।

বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর কাছে হেরে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইতালির সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এবারের আসরেও দর্শক হিসেবেই থাকতে হবে দলটিকে।

আরও পড়ুন: ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি ক্রীড়ামন্ত্রীর

তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তায় হঠাৎ করেই এক নতুন সম্ভাবনা সামনে এসেছে, যদিও সেটি এখনো অনেকটাই ক্ষীণ। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইরান জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে আলোচনা চলছে। দেশটির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশে গিয়ে খেলার অনীহার কথাও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচ পরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে একটি নিয়ম—কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে তার পরিবর্তে অন্য দলকে সুযোগ দেওয়া যায়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাছাইপর্ব বা অবস্থানের ভিত্তিতে নতুন দল নির্ধারণ করা হয়।

এই হিসাবে এশিয়া অঞ্চল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় ফুটবল দল এগিয়ে রয়েছে। তারা বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ইরাক জাতীয় ফুটবল দল-এর কাছে হেরে যায়।

ইরাক দলের সহকারী কোচ রেনে মিউলেনস্টিন জানিয়েছেন, আঞ্চলিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের জায়গা পূরণে ইরাকই এগিয়ে থাকতে পারে।

তবে ফিফা চাইলে নিজেদের বিবেচনায় ভিন্ন সিদ্ধান্তও নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অবস্থানের ভিত্তিতে সুযোগ পেতে পারে ইতালি।

তবে এমন সিদ্ধান্ত সহজ নয়। ইতালিকে সুযোগ দিলে ইউরোপ অঞ্চল অতিরিক্ত একটি স্থান পাবে, যা অন্য অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে ইতালির বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। বড় কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটলে তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হওয়ারই ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে ফিফা-এর।