বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হত্যার হুমকি পেলেন কলম্বিয়ার ফুটবলার
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হত্যার হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FCF)। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে ফেডারেশন বলেছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দলের জন্য জয়সূচক গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্যাম্পাজ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সুইজারল্যান্ড। এতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচের পর দলের সঙ্গে বোগোতাগামী নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি ক্যাম্পাজ। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ে নজর ফুটবল বিশ্বের
তিনি লেখেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানোর, জাতীয় সঙ্গীত শোনার, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বকাপে গোল করার।”
সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই যে আনন্দের অপেক্ষায় ছিলাম, তা এনে দিতে না পারার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে এই জার্সির প্রতি আমার নিবেদন, প্রতিশ্রুতি এবং ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। মাঠে আমি আমার সর্বোচ্চটাই দিয়েছি, আর দেশের জন্য এই কাজ আমি আরও হাজারবার করতে প্রস্তুত।”
এই ঘটনার পর ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের করুণ স্মৃতির কথাও স্মরণ করছেন। সে আসরে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে নিহত হন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে আজও সেই হত্যাকাণ্ড আলোচিত।
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।





