ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ে নজর ফুটবল বিশ্বের
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার। ইতিহাসজুড়ে অসংখ্য নাটকীয় ম্যাচ উপহার দেওয়া এই দুই দল এবার আবারও মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তবে ম্যাচটির বিশেষ আকর্ষণ অন্য জায়গায়—আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করা আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষে খেললেও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে আসন্ন সেমিফাইনালটি তার ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি
সেমিফাইনালে ওঠার পথে কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে মেসি গোল করতে না পারলেও চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা আট। একই সংখ্যক গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।
বিবিসির বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস মনে করেন, মেসিকে থামানো প্রায় অসম্ভব। তার ভাষায়, "ইংল্যান্ড হয়তো গতিতে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদের বিপক্ষে আছে মেসির মতো একজন প্রতিভা। সে এমন সব জায়গায় চলে যায়, যেখানে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার স্থানিক সচেতনতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও ফিনিশিং অসাধারণ।"
আরও পড়ুন: সেমিফাইনালের মঞ্চে অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনা, ৯২ বছরের ইতিহাসে নেই কোনো হার
অন্যদিকে বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলেছেন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে অপরাজেয় না মনে হলেও তারা কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয় তুলে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। তার মতে, টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড এই চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচকভাবেই নেবে।
ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি মনে করেন, মেসি রক্ষণভাগে খুব বেশি অবদান না রাখলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে ফল বদলে দিতে পারেন। তাই তাকে ঠেকানোর জন্য পুরো ম্যাচজুড়ে একাগ্রতা ও ডিফেন্ডারদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকেরি বলেন, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আবেগ আলাদা। তার মতে, এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না খেলে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হওয়া অবিশ্বাস্য হতো। তাই এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং একই ম্যাচে তার অসাধারণ একক গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় রয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তোলে।
প্রায় ২১ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি মেসি। অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় পরবর্তী প্রীতি ম্যাচেও তিনি খেলতে পারেননি।
সব মিলিয়ে আসন্ন সেমিফাইনালটি শুধু দুটি শক্তিশালী দলের লড়াই নয়, বরং লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক অনন্য মাইলফলকের সাক্ষীও হতে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন সেই বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথের দিকেই।





