১৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে দেশের অন্তত ১৫ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বা এর কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার আভাস মিলেছে, তবে নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সাময়িক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। কোথাও পানি স্থিতিশীল থাকলেও, কোথাও আবার নতুন করে নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সম্ভাব্য প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী একদিন এই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিনে পানি ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৭ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। পরবর্তীতে পানি কমতে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি গত একদিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী একদিন এ প্রবণতা স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী দুই দিনে পানি কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্রাই নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ছোট যমুনা নদী নওগাঁ এবং আত্রাই নদী নাটোর ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগেও নদ-নদীর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সেলোনিয়া, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী একদিন এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এ কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমেছে। তবে তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী একদিন তিস্তার পানি কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দুই দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্লাবনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।