সাতক্ষীরা উপকূলীয় শ্যামনগর নীলডুমুরে হঠাৎ ডেবে গেছে, ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

Sanchoy Biswas
সৈয়দ আব্দুস সালাম পান্না, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের নীলডুমুর এলাকায় ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন নদীর চর হঠাৎ ডেবে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, নদীর চর ভেঙে ও ডেবে যাওয়ার কারণে আশপাশের কমপক্ষে ১৫টি গ্রাম ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় চরটির দুর্বল অংশগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

সরেজমিনে বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে গিয়ে দেখা যায়, আনুমানিক ৫শ ফুট জায়গাজুড়ে খোলপাটুয়া নদীর পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চর ডেবে গিয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনীর স্থানীয় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করে বলেন, যদি জরুরি ভিত্তিতে চরটি ডেবে যাওয়া রোধ না করা হয় তবে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

স্থানীয়রা আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে নদী ভাঙন রোধে দাবি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অনেকের ধারণা, সঠিক সময়ে সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে।

এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের বাড়ির সামনে খোলপাটুয়া নদীর চর ডেবে যাচ্ছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যদি ডেবে যাওয়া স্থানটিতে জিও ভর্তি বালুবস্তা ডাম্পিং করা না হয় তাহলে আমার ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এখন মৎস্য ঘেরে মাছ চাষের সিজন হওয়ায় প্রতিটি ঘেরে প্রচুর পরিমাণ চিংড়ি মাছ রয়েছে, আর এই এলাকা ভেঙে গেলে বহু টাকার লোকসানে পড়তে হবে এই উপকূলের মৎস্য চাষীদের।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুবই দ্রুত নীলডুমুর খোলপাটুয়া নদীর চর ডেবে যাওয়া স্থানে জিও বস্তা ডাম্পিং করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নদীর চর সংস্কারের উদ্যোগ কামনা করেন।