যুবলীগ নেতার ডুপ্লেক্স বাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ন, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, ১০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশে যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু নামে এক যুবলীগ নেতার তিনতলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি সহ প্রায় সাত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ জব্দ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে এই অবৈধ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক-এর নেতৃত্বে পলাশের ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচরে এই অবৈধ সম্পদগুলো জব্দ করা হয়। এসময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকীকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

দেলোয়ার হোসেন দেলু পলাশ উপজেলার কাজিরচর গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে। তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু আয় বহির্ভূত ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ দখলে রাখার অভিযোগে দুদক গাজীপুর-এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্তকালে দুদক কর্মকর্তারা জানতে পারে দেলোয়ারের অবৈধ সম্পদের ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদ হস্তান্তর ও বিক্রির চেষ্টা করছেন। পরে দুদক সম্পদ বেহাত হয়ে যাবে আশায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: ক্যান্সার জয়ের উৎসবে ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী — চিকিৎসার পর নতুন জীবনের পথ দেখাচ্ছেন এই অদম্য চিকিৎসক

পরে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর সম্পদগুলো ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে দুপুরে দুদক, সম্মিলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুর-এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচরে আদালতের নির্দেশনায় দেলুর অবৈধ সম্পদ ক্রোক করা হয়। পরে তা পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকীকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ক্রোককৃত সম্পদ হলো, পলাশের কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ২ হাজার ৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। যার মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা। আর একই গ্রামে ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত তিন হাজার ৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন। যার মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা। দেলুর মোট ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, আদালতের নির্দেশনায় দুইটি ভবন আমরা ক্রোক করেছি ও রিসিভার হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সম্পদ যেনো বেহাত ও বিক্রি না হয় সেজন্য আমরা ক্রোক করেছি। এগুলো আমাদের লোকবল দ্বারা দেখাশোনা করা হবে। আর ভবনে যারা ভাড়াটিয়া বাসিন্দা ছিলেন তাদের দ্রুত অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এসময় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হলধর দাস সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।