ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কৃষকদলের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক তরু মুন্সি (৫৫) নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গান্না ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী।

আরও পড়ুন: ১৭ বছর এ দেশে নির্বাচিত সরকার ছিল না, এই ১৭ বছরের জঞ্জাল আমাদের পরিষ্কার করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

এর আগে শুক্রবার দুপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম বৈঠক ও ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে তরু মুন্সিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তরু মুন্সিকে বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে রাতে তার মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন তরু মুন্সির ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি, তার ভাই হোসেন আলী, ভাতিজা শহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের তালিকার বিতর্ক নিরসনে কাজ করবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি জানান, শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম বৈঠক ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে জামায়াতের নারী কর্মীরাও লাঠিসোটা নিয়ে হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর জামায়াতের সমর্থকেরা গান্না ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়সহ বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও তরু মুন্সির বাড়িতে ভাঙচুর চালান।

অন্যদিকে ড. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আমির, দাবি করেন—জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করছিলেন। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে তাদেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে মাহফুজ আফজাল, বাংলাদেশ পুলিশর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, জানান—পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।