ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ৪৪১ নবীন নাবিকের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আধুনিক, স্মার্ট ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অগ্রযাত্রার মধ্যেই পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হলো ৪৪১ নবীন নাবিকের বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ৪৪১ নবীন নাবিকের বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্রসীমা নিরাপত্তা ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নাবিকরাই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী বর্তমানে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি আধুনিক ও স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তুলতে দক্ষ, চৌকস ও প্রশিক্ষিত নাবিকের বিকল্প নেই। নবীন নাবিকদের সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও মূল্যবোধ ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুর জেলা পরিষদ ৮০ জন নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন
তিনি আরও বলেন, নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই নবীন নাবিকরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌবাহিনী প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে অলিম্পিয়াড পুরস্কার বিতরণী ও সম্প্রীতি সমাবেশ
প্রশিক্ষণে পেশাগত ও সার্বিক বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় মোঃ শাহরিয়ার টুটুল ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘কমখুল পদক’ পান মোঃ সামিউল ইসলাম শাকিল এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোঃ কাদের মিয়া লাভ করেন ‘শের-ই-বাংলা পদক’। এছাড়া সেরা চৌকস মহিলা নাবিক হিসেবে মোছাঃ মারিয়া আক্তার অর্জন করেন ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অপারেশন জ্যাকপটসহ বিভিন্ন দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর সীমিত সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, নেভাল এভিয়েশন এবং উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বহিঃশত্রুর যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।





