ভৈরবে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, পুলিশসহ আহত অন্তত ৩০
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে দুর্জয় মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওরে ১৪ জেলেকে জরিমানা, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল-চাই জব্দ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুর্জয় মোড় এলাকায় এক যাত্রী দুই নারীকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করতে গেলে ভাড়া নিয়ে চালক পলাশের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই ঘটনার জের ধরে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার বিকেলে সেই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নান্দাইলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।





