কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
কুমিল্লা নগরীর প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত টমছমব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকার কারণে এই তিনটি সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অথচ প্রায় ৫ বছর ধরে সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকায় বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়ক এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই, কোথাও আবার উঠে গেছে ইট-পাথরের খোয়া।
আরও পড়ুন: জনগণই দেশের মালিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আপসহীন সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনের সড়ক ও ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত তা বোঝার উপায় নেই।
প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক, পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ বছর ধরেই এ অবস্থা।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী, তাদের স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, "চোখের সামনে হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখছি। কিন্তু করার কিছু নেই। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অথচ সংস্কার হচ্ছে না।"
এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, বার্ড, কুমিল্লা পলিটেকনিক, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর, র্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী যাতায়াত করেন।
এছাড়া ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ির পর্যটন এলাকায় যাওয়া-আসার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও এই সড়ক ব্যবহার করেন। ভাঙা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, "প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো এই সড়কে চলাচল করতেও ভয় পায়। সড়কের অবস্থা দেখলে মনে হয় না এর কোনো তদারকি সংস্থা আছে।"
কোটবাড়ি এলাকার সিএনজি চালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া* বলেন, "যাত্রী উঠলেই গালাগালি করে। প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় আছে। মাঝে কিছু ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।"
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, "টমছমব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ অন্যান্য সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।"





