ভর্তি ১১২, সাপে কাটা ১০৫ জন
চট্টগ্রামে বন্যার পর বাড়ছে ডায়রিয়া-চর্মরোগ ও সাপের উপদ্রব
চট্টগ্রামে বন্যা পরবর্তী বন্যার পানি নামার পর নগর ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া-চর্মরোগ এবং সাপের কামড়ের প্রকোপ। পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ১১২ জন এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ১০৫ জন। এছাড়া পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সাতকানিয়ায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ৩০০ জনের বেশি রোগী পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সময়মতো চিকিৎসা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম বিতরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ মজুত আছে। ৫ জেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ৫১৬টি মেডিক্যাল টিম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জরুরি ঘোষণা
এদিকে চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭ জন। চলতি মাসে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ১৭৪ জনের বেশি। চলতি বছর মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, অধিকাংশ রোগী জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া কেউ কেউ রক্তক্ষরণ, লো প্রেশার, ডায়রিয়া নিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ডাকাতি, ডাকাতের হামলায় নিহত ১
বিভাগীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার অগভীর নলকূপ দূষিত হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন,আমাদের মেডিক্যাল টিমগুলো মাঠে সক্রিয় আছে। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীও আসছে।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের ৩০ শতাংশের বেশি ডায়রিয়ায় ভুগছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
জানা গেছে, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী চন্দ্রনগর এলাকার বাবুলের কলোনিতে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত দুইদিনে ১৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে আবদুল মতিন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত ডা. রাতুল হালদার। তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। তারা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগী এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ফৌজদাহারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, নগরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও চিকিৎসকের চেম্বারে আসছে রোগী। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ১১২ জন এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ১০৫ জন। সবচেয়ে বেশি সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে বোয়ালখালী উপজেলায় ২৬টি, বাঁশখালীতে ১৯টি ও পটিয়ায় ১৮টি।





