কৃত্রিম সংকট
সিরাজগঞ্জে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ ডিলারদের বিরুদ্ধে
কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিরাজগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলার, সাব ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, আগস্টেই আক্রান্ত ৪৯ জন
সরেজমিনে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের নলকা ব্রীজের নিচে, এরান্দহ বাজার, সাহেবগঞ্জ বাজার, পাঙ্গাশী ইউনিয়নের হাট পাঙ্গাশী বাজার ও গ্রামপাঙ্গাশী বাজারে, ব্রম্মগাছা বাজার, ধানগড়া বাজার, চান্দাইকোনা বাজার ও সলঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।
এসব এলাকার কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে চাহিদানুযায়ী সার না পাওয়ায় তারা ফসল ফলানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট
এরান্দহ গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, আমি ৪/৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছি। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছি। পাইকারি কিংবা খুচরা কোথাও পর্যাপ্ত টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না।
উপায় না পেয়ে এরান্দহ বাজারে ফরহাদের দোকান থেকে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ৪০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
পাঙ্গাশী ইউনিয়নের কয়াবিল গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। অথচ কোথাও প্রয়োজন মতো সার পাচ্ছি না। ডিলারদের কাছে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখে মাত্র ৫/১০ কেজি সার দেওয়া হচ্ছে। এ সামান্য সার দিয়ে আমরা কী করব? অথচ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিলেই চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় দাদুর মোড়ে জুলফিকার তালুকদারের দোকান থেকে বস্তায় ৫০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
কৃষক মোজাম্মেল হোসেন, রুহুল আমিন, আমিনুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, মালেকসহ অনেকেই জানান, এরান্দহ বাজারে শুকুর আলী নামে বিসিআইসি খুচরা ডিলার পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন। সে সারের সংকট বলে বাড়তি দামে বিক্রি করে। সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। একইভাবে ১,০৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার ১,৬০০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা ইউরিয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে।
তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ পন্থী ডিলাররা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং সাধারণ কৃষকদের কাছে সার না থাকার গল্প চালিয়ে সারের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা সার বিক্রেতা জানান, তারা সাধারণত বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। তাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু অতিরিক্ত দাম নিলেও মেমোতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যই লিখে দেওয়া হচ্ছে। এমন চিত্র জেলার সকল উপজেলাতেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরান্দহ বাজারের সার ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকার নির্ধারিত মুল্যের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। তবে, চাহিদা মতে বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় টিএসপি ও ডিএপি সারের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সারের কোনো সংকট নেই দাবী করে কৃষি কর্মকর্তা মো, মমিনুল ইসলাম বলেন, মাসের শেষের দিক হওয়ায় ডিলারদের নিকট সার কম থাকতে পারে। কৃষক ও মিলাররা আতঙ্কিত হয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। চাহিদা মতে প্রতি মাসেই সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা খুচরা দোকানদারদের কাছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সার বিক্রি না করেন। এমনকি ছুটির দিনেও আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ডিলার বা বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





