অষ্টগ্রামে ত্যাগী নেতা সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ওপর হামলা

১৭ বছরের নিপীড়নের পরও দল আগলে রাখা নেতাকে শোকজ

Shahrier Islam Pallab
বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য
প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৮ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিএনপির ভেতরে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছেলের রাজনৈতিক দখলে থাকা ওই এলাকায় প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে আগলে রাখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ওপর হামলা ও শোকজ নোটিশ জারির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্ব অষ্টগ্রাম বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি গ্রুপ একত্রিত হয়ে সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়。এছাড়া আখড়া বাজারে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই হামলার পর তাকে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ছেলের রাজনৈতিক দখলে থাকা এলাকায় দল আগলে রাখা

আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার, ২১ দিনের কারাদণ্ড

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অষ্টগ্রাম এলাকার রাজনীতি ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহমেদ তৌফিকের রাজনৈতিক দখলে।  ওই সময়ে অষ্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নানা নির্যাতন চলত। সৈয়দ সাঈদ আহমেদ নিজেও একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেননি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেননি। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলকে আগলে রেখেছেন এবং  বিএনপির প্রতি আস্থা থেকেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে এখন ষড়যন্ত্র করছে সেই ‘হাইব্রিড’ নেতারা, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছেন এবং আজ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপির ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করছেন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরও পড়ুন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

তদন্তসূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সভাপতি কাছেদ হলেন বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন শফীর বিয়াই। আর সেই পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান কাছেদের মেয়ের বিয়েতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন উকিল শ্বশুরের ভূমিকা পালন করেছেন। একইসঙ্গে কাছেদ পারস্পরিক সূত্রে আকসারের চাচা। এই সম্পর্কের কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপির রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলার সঙ্গে এস. এম. শাহীন, আকসার, শফী, ইয়াকুব এবং আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান কাসেদ সরাসরি জড়িত। এছাড়া সহ-সভাপতি জাকির হোসেন শফীর শ্যালক আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি সেলিম প্রকাশ্যে সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে মিটামইনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সাহেবের মতো ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দলের ভেতরে আওয়ামী লীগের এজেন্ট ঢুকে পড়েছে এবং তারাই দলকে তছনছ করে দিচ্ছে। ১৭ বছর ধরে নিপীড়িত, মামলা-হামলার শিকার হয়ে এই প্রতিকূলতাকে আলিঙ্গন করে থেকে দল ধরে রাখা একজন ত্যাগী নেতাকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ ষড়যন্ত্র এবং তাকে শোকজ নোটিশ জারি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

আগামী দিনে এমন ত্যাগী নেতা বনাম হাইব্রিড নেতার কারণে দল কত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তা নিয়ে এখন বিএনপিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় এস. এম. শাহীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।