রূপগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টা

Shahrier Islam Pallab
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:০১ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বৃদ্ধসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। 

এ সময় তাদের বাড়িঘর দখলের চেষ্টা, মারধর এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।সোমবার সকালে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মুশুরি ঠাকুরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লিটন অধিকারী জানান, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুশুরি মৌজার ৫৬২, ৫৮৯ ও ৫৬৪ নম্বর দাগের জমি তার বাবা শান্তি অধিকারী ও চাচা চিন্তাহরণ অধিকারী ক্রয়সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল ভারসাম্যহীন গৃহবধূর

ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ অধিকারীদের সঙ্গে তাদের প্রায় ২৬ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। জমিটি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বলে তিনি জানান।লিটন অধিকারীর ভাষ্য, সোমবার সকালে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়ার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তার আপন চাচাতো ভাই সামাউন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের বসতভিটায় যায়। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও স্টিলের পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে মাপজোক শুরু করে এবং সীমানা নির্ধারণের জন্য খুঁটি স্থাপন করে। পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় লিটন অধিকারী, তার বড় ভাই দুলাল অধিকারী এবং বৃদ্ধ বাবা শান্তি অধিকারী আহত হন। পরে তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের যেকোনো সময় হত্যা ও গুম করা হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, অভিযুক্ত সামাউন ভূঁইয়া রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়ার আপন চাচাতো ভাই হওয়ায় ঘটনার সময় অনেকে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তবে স্থানীয়দের এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।জমিতে যাওয়ার বিষয়ে সামাউন ভূঁইয়া বলেন, অক্ষয় অধিকারী নামের একজনের কাছ থেকে তিনি জমি কিনেছেন। 

আরও পড়ুন: অটোচালক জাকারিয়া হত্যা; পরিকল্পনাকারী সাইফুলসহ গ্রেপ্তার ৩

ন্যায়সংগতভাবেই তিনি জমিতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও দাবি করেন তিনি।রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন, সামাউন ভূঁইয়া তার চাচাতো ভাই হলেও তাদের সম্পর্ক ভালো নয়। বসতভিটা দখলের বিষয়টি তিনি এইমাত্র জানতে পেরেছেন। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও পুলিশ দেখবে।রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল বিন শফিক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে। যেহেতু থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, বসতভিটা দখলের চেষ্টা এবং হামলা-হুমকির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।